Course Content
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
জীব বিজ্ঞান SSC Online
About Lesson

পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব : আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীকে জীবের বসবাসযোগ্য করার জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ
অপরিহার্য। এ পৃথিবীতে রয়েছে অসংখ্য জীব, আর জীবন ধারণের জন্য বিভিন্ন উপাদান যেমন- মাটি, পানি, বায়ু
ইত্যাদি। পৃথিবীতে জনসংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ বিশাল জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা যেমন- অন্ন, বস্ত্র,
বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির চাহিদা মেটাতে গিয়ে প্রাকৃতিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আমাদের পরিবেশে
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উদ্ভিদ, কীটপতঙ্গ থেকে শুরুকরে বৃহদাকৃতির উদ্ভিদ ও প্রাণী কেউই মূল্যহীন নয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়
এ উদ্ভিদ ও প্রাণীকূল একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে আবদ্ধ। লক্ষ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদ, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ
ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছে জীববৈচিত্র্য। অরণ্য, পাহাড়, জলাভূমি, সমুদ্র জীববৈচিত্র্যের অতীব প্রয়োজনীয় আঁধার। তাই
পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাসমূহ যেমন- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি প্রয়োজনীয় উপকরণ
নিরবিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যাবে। ফলে
চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হবে। গ্রৗন হাউজ অর্থ সবুজ ঘর। এটি কাঁচ দিয়ে তৈরি ঘর। প্রয়োজনমত তাপমাত্রা সৃষ্টি করে
সবুজ গাছ পালা জন্মানো হয়। সাধারণতঃ শীত প্রধানদেশে এ ধরনের কাঁচের ঘর তৈরি করে শসা, টমেটো, কপি, লেটুস,
ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের শাকসব্জি চাষ করা হয়। সূর্য্যরে দৃশ্যমান আলো গ্রৗন হাউজের কাঁচের প্রাচীর ভেদ করে ভেতরে
প্রবেশ করে কিন্তু বিকিরিত আলোকরশ্মি কাঁচ ভেদ করে বাইরে আসতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে তাপ ভেতরে থেকে যায়,
কাঁচের ঘর গরম হয় এবং গাছ জন্মানোর জন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়। গ্রীন হাউজ প্রভাব বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার সাথে সংযুক্ত।
সূর্য থেকে আগত দৃশ্যমান আলোক রশ্মি ভূপৃষ্ঠ থেকে ইনফ্রারেড রশ্মি বিকিরণের মাধ্যমে বায়ুমন্ডলের ভেতর দিয়ে বাইরে
চলে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু বায়ুমন্ডলের কিছু গ্যাস (CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) ইনফ্রারেড রশ্মিকে শোষণ করে।
ফলে বায়ুমন্ডলের ভেতর দিয়ে ইনফ্রারেড রশ্মি যেতে পারে না। বায়ুমন্ডলের গ্যাসসমূহ গ্রীন হাউজের কাঁচের দেয়ালের
ন্যায় কাজ করে এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। বৃদ্ধি পাবার ফলে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। যাকে গ্রীন হাউজ ইফেক্ট
বলা হয়। গ্রীন হাউজ ইফেক্টের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল। এছাড়া সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে
যাবে, ঝড় ও জ্বলোচ্ছ¡াস এর তীব্রতা বেড়ে যাবে, বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। কিন্তু পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীন হাউজের
তীব্রতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বেশি বেশি গাছপালা ধ্বংস করা এবং শিল্পায়নের ফলে বায়ুমন্ডলে
ঈঙ২ গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের পদ্ধতি : পরিবেশ সংরক্ষণের বিভিন্ন উপায় রয়েছে। যথা- সরকারি এবং বেসরকারি উপায়ে পরিবেশ
সংরক্ষণ করা যায়। কোন এলাকায় শিল্প কলকারখানা নির্মাণের পূর্বেই সে এলাকার পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব
বিবেচনা করতে হবে এবং শিল্প বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ন করতে হবে। জ্বালানি কাঠের
পরিবর্তে সৌর শক্তির ব্যবহার করতে হবে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। পরিবেশ দূষণ
রোধে পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে গণ সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন। উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমিক্ষয় রোধ করতে প্রচুর
পরিমাণে বনায়ন করতে হবে। এতে জ্বলোচ্ছ¡াস ও ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি ভূমিক্ষয়ও রোধ হবে। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক এবং সে লক্ষ্যে যে সমস্ত উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে
তাদেরকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করতে হবে। বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, মাটি দূষণ, শব্দ দূষণ যাতে না হয় সে রকম সব
ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ নীতিকে যথার্থভাবে অনুসরণ করতে হবে।