Course Content
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
জীব বিজ্ঞান SSC Online
About Lesson

প্রাণীর সমন্বয় প্রক্রিয়া : প্রাণীদেহের বিভিন্ন অঙ্গ সঠিক সময়ে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে বলে প্রাণীদেহের
প্রত্যেকটি কাজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। যেমনÑ আমরা যখন খাবার খাই তখন চোখ দিয়ে প্রথমে খাবার দেখি,
নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেই, হাত দিয়ে খাবার মুখে পুরি, জিহŸা দিয়ে খাবারের স্বাদ নেই, চোয়ালের পেশি দিয়ে খাবার চিবাই,
আবার গলাধঃকরণ, লালাক্ষরণ, হজম ইত্যাদি ঘটে। নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এমন কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হতে পারে না। বিভিন্ন অঙ্গ তন্ত্রের
পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কাজের মাধ্যমে দেহের সকল কর্মকান্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় বলা হয়।
উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে বিভিন্ন আচরণ প্রকাশ করা প্রতিটি প্রাণীর মৌলিক বৈশিষ্ট্য। হাঁটা চলা, উঠা বসা, কথা বলা, চিন্তা
করা, পড়া মুখস্থ করায় বিভিন্ন অঙ্গ অংশ নেয়। এ অঙ্গগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য একটি সমন্বয় ব্যবস্থার
প্রয়োজন। প্রাণীর প্রয়োজনীয় সমন্বয় ব্যবস্থা স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোন দ্বারা প্রভাবিত হয়।
হরমোনাল প্রভাব : হরমোনের কারণে প্রাণী তার কার্যকলাপ অর্থাৎ আচরণের পরিবর্তন করে থাকে। হরমোন দেহের
নালিবিহীন গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলো একে অপরকে নিয়ন্ত্রণ করে। নালিবিহীন গ্রন্থিগুলোর কার্যকলাপ
আবার ¯œায়ুতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে। সমন্বয় সাধনে প্রাণী হরমোন ব্যবহার করে। যেমনÑ পিপঁড়া খাদ্যের খোঁজ নেয় খাদ্য উৎস
থেকে বাসায় আসার পথে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত করে। একে ফেরোমন বলে। এর উপর নির্ভর করে অন্য
পিপঁড়াগুলোও খাদ্য উৎসে যায় এবং খাদ্য সংগ্রহ করে বাসায় ফিরে আসে। এ কারণে পিপঁড়াদের এক সারিতে চলতে
দেখা যায়। কোন কোন পতঙ্গ ফেরোমন দিয়ে তার স্বপ্রজাতির সঙ্গীকে খুঁজে নেয়। শস্য ক্ষেতে অনিষ্টকারী পোকা দমনে
বা ধ্বংসে ফেরোমন ব্যবহার করা হয়। ফেরোমনের কারণে আকৃষ্ট হয়ে অনিষ্টকারী পোকা ফাঁদে ও পানিতে ডুবে মারা
যায়। এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিবেশ বান্ধব।
স্নায়ুবিক প্রভাব : আমাদের সমগ্র দেহের বিভিন্ন কাজের সুসংবদ্ধতার জন্য প্রয়োজন লক্ষ লক্ষ কোষের কাজের সমন্বয়
সাধন। বিভিন্ন অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাণীর বৈশিষ্ট্য
হলো পরিবেশের উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দেওয়া। পরিবেশ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে প্রাণীর গ্রাহক যন্ত্রগুলোর (যেমন-
চোখ, কান, নাক, ত্বক ও জিহŸা) অনুভূতিবাহী স্নায়ুপ্রান্ত। এ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছে। মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে আজ্ঞাবাহী বা
মোটর স্নায়ু যোগে তাড়না পাঠিয়ে পেশি কিংবা গ্রন্থিতে সাড়া জাগায় ও কোন কাজ করতে সাহায্য করে। দেহের বাইরের
জগত হলো বাহ্যিক পরিবেশ এবং দেহের ভেতর হলো অভ্যন্তরীণ পরিবেশ। বাহ্যিক পরিবেশের উদ্দীপক হলো আলো,
গন্ধ, স্বাদ এবং স্পর্শ। এসব চোখ, কান, নাক, জিহŸা এবং চর্মের অনুভূতিবাহী স্নায়ুপ্রান্তে উদ্দীপনা জাগায়। অভ্যন্তরীণ
পরিবেশের উদ্দীপক হলো চাপ, তাপ ও বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তু। এরা অভ্যন্তরীণ অঙ্গের কেন্দ্রমুখীপ্রান্তে উদ্দীপনা সৃষ্টি
করে। যে কোনো উদ্দীপক অনুভূতি ও কেন্দ্রমুখী স্নায়ু তাড়না বা উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। সাধারণত ¯œায়ুবিক প্রভাবে যে সকল
কাজ সম্পাদন হয় তা হলো১। বাইরের ও ভেতরের পরিবেশের তথ্য সংগ্রহ,
২। সে তথ্যের ভিত্তিতে প্রদত্ত সাড়ার মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং
৩। সংগৃহীত তথ্যকে পূর্বের অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্ক স্থাপন বা তুলনা