্রাণরসজনিত অস্বাভাবিকতা : সাধারণত প্রাণরস বা হরমোন মানুষের দেহে নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে। তবে কোন
কোন সময় বিভিন্ন কারণে এর মাত্রা কম বা বেশি হয়। একে প্রাণরসজনিত অস্বাভাবিকতা বলে। এর ফলে
মানব দেহে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি দেখা দেয়। যেমন- থাইরয়েড সমস্যা, বহুমূত্র রোগ ইত্যাদি।
থাইরয়েড সমস্যা : সমুদ্রের পানিতে সবচেয়ে বেশি আয়োডিন থাকে। তাই সামুদ্রিক মাছ মানুষের খাদ্যে আয়োডিনের মূল
উৎস। আয়োডিনযুক্ত খাবার খেলে থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয়। দেখা গেছে সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত এলাকা যেমনহিমালয়ের পাদদেশে নেপাল কিংবা বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে, মানুষের গলা ফোলা রোগ গলগন্ড রোগীর সংখ্যা তুলনামুলক
অনেক বেশি। থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাঁধা পায়। ফলে গায়ের চামড়া খসখসে হয় ও
গোলাকার গোবেচারা আকারের মুখমন্ডল তৈরি হয়। আয়োডিনের অভাবে হরমোন উৎপাদন ব্যাহত হলে শিশুদের বিকাশ
বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। এজন্য খাদ্যে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়। এছাড়া কলা, ফলমূল, কচু, সামুদ্রিক
মাছ ইত্যাদি খেলেও এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
বহুমূত্র রোগ : দেহের শর্করা পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে ইনসুলিন। অগ্ন্যাশয়ে যদি প্রয়োজন মত ইনসুলিন তৈরি না হয় তবে
রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। প্রস্রাবের সাথে গøুকোজ নির্গত হয়। এ অবস্থাকে বহুমূত্র (উরধনবঃবং) বলে। বহুমূত্র
রোগ দু’ধরনের হয়। টাইপÑ১ এবং টাইপ-২।
টাইপÑ১ : এতে আক্রান্ত রোগীর দেহে একেবারে ইনসুলিন তৈরি হয় না। ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন নিতে হয়।
টাইপÑ২ : এতে রোগীর দেহে আংশিকভাবে ইনসুলিন তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে ঔষধ অগ্ন্যাশয় কোষকে শরীরের জন্য
পরিমিত ইনসুলিন তৈরিতে সাহায্য করে।
এ রোগটি বংশগত এবং পরিবেশের কারণে হয়। এ রোগ ছোঁয়াচে নয়। রক্তে ও প্রস্রাবে গøুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে এ
রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
বহুমূত্র রোগের লক্ষণগুলো হলোÑ ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, অধিক পিপাসা লাগা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া, পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণেও
দেহের ওজন কমে যাওয়া, দুর্বলতা বোধ করা, চোখে কম দেখা এবং ক্ষত স্থান সহজে না শুকানো ইত্যাদি।
ছোট, বড় সবার এ রোগ হতে পারে। তবে যারা কাক্সিক্ষত পরিশ্রম কম করেন, বেশির ভাগ সময় বসে কাজ করেন, অলস
জীবন যাপন করেন তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ রোগ বংশগত, কোন ব্যক্তির মা-বাবা, দাদা-দাদীর
বহুমূত্র রোগ থাকলে তার এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ নিরাময় করা যায় না তবে নিয়ন্ত্রণে
রাখা যায়। ডাক্তারদের মতে এ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি উ মেনে চলা অত্যাবশ্যক। এগুলো হলোÑ উরংপরঢ়ষরহব
(শৃংখলা), উরবঃ (খাদ্য নিয়ন্ত্রণ) এবং উড়ংব (ঔষধ সেবন)।
প্রথম অধ্যায়: জীবনের পাঠ (Introduction to Life)
0/4
দ্বিতীয় অধ্যায়: জীবকোষ ও টিস্যু (Cell and Tissue)
0/7
তৃতীয় অধ্যায়: কোষ বিভাজন (Cell Division)
0/7
চতুর্থ অধ্যায়: জীবনীশক্তি (Bioenergetics)
0/6
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
নবম অধ্যায় : দৃঢ়তা প্রদান ও চলন
0/8
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
চতুর্দশ অধ্যায় :জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology)
0/6
About Lesson