বংশগতির তথ্য : জীবের সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে বংশগতির তথ্য বলা হয়। এ সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
পিতা-মাতা থেকে কোন এক বাহকের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিতে বংশ পরম্পরায় পরিবাহিত হয়। যেমনমানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন, উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ফলের ধরন, পাতার গঠন, কান্ডের প্রকৃতি, টিস্যুর গঠন
ইত্যাদি।
বংশগতির তথ্য স্থানান্তর : বংশগত ধারা পরিবহনে ক্রোমোসোম, ডিএনএ এবং আরএনএ এর গুরুত্ব অপরিসীম। এরা
কোষের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্রোমোসোম প্রজাতির যাবতীয় জৈবিক ও বংশগতির ক্রিয়াগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। নি¤েœ
এদের ভূমিকা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলোবংশগতির তথ্য স্থানান্তরে ক্রোমোসোমের ভূমিকা : ক্রোমোসোমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশের নাম জিন। জিন বংশগতির
ধারক ও বাহক। মেন্ডেল এটিকে কণা, মর্গান ফ্যাক্টর এবং যোহানসেন জিন নামে অভিহিত করেন। জিনের মাধ্যমে জীবের
বৈশিষ্ট্য সন্তান-সন্ততিতে বংশ পরম্পরায় পরিবাহিত হয়। জীবের এক একটি বৈশিষ্ট্য এক বা একাধিক জিন দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত। জিনের মাধ্যমে ক্রোমোসোম জীবের যাবতীয় জৈবিক ও বংশগতির কার্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। জীবের সকল
ধরনের গঠন বৈশিষ্ট্য জিন কর্তৃক বাহিত হয়ে বংশগতির ধারা অক্ষুন্ন রাখে। এ কারণে ক্রোমোসোমকে বংশগতির ভৌত
ভিত্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়। কোষ বিভাজনের মায়োটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বংশগতির এ ধারা অব্যাহত থাকে।
বংশগতির তথ্য স্থানান্তরে ডিএনএ এর ভূমিকা : ক্রোমোসোমের প্রধান উপাদান ডিএনএ। ডিএনএ-এর একটি অংশ যাহা
একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে জিন বলে। জিন ক্রোমোসোমে অবস্থিত থাকে। ডিএনএ হলো বংশগতির
রাসায়নিক ভিত্তি। ডিএনএ জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক ও বাহক। ডিএনএ জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সরাসরি
বহন করে পিতা-মাতা থেকে তাদের বংশধরে নিয়ে যায়।
বংশগতির তথ্য স্থানান্তরে আরএনএ এর ভূমিকা : আরএনএ বংশগতির রাসায়নিক বস্তু হিসেবে কাজ করে। আরএনএ ও
এনজাইম জিন কর্তৃক তৈরি হয়। এরা জীবের অধিকাংশ জৈবিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এসবের নিয়ন্ত্রণে জিন কার্যকরী
ভূমিকা পালন করে।
ডিএনএ-এর প্রতিরূপ : এ প্রক্রিয়ায় একটি ডিএনএ হতে আর একটি নতুন ডিএনএ অণু সংশ্লেষিত হয়। ডিএনএ অর্ধ-
রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়। এ পদ্ধতিতে ডিএনএ সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙ্গে গিয়ে আলাদা হয় এবং
প্রতিটি পুরাতন সূত্র তার পরিপূরক নতুন সূত্র সৃষ্টি করে। পরে একটি পুরাতন সূত্র এবং একটি নতুন সূত্র সংযুক্ত হয়ে নতুন
ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়। একটি পুরাতন মাতৃসূত্র এবং একটি নতুন সৃষ্ট সূত্রকের সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধ-রক্ষণশীল
পদ্ধতি বলা হয়। ওয়াটসন ও ক্রিক (১৯৫৬) এধরনের ডিএনএ অনুলিপন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করেন।
প্রথম অধ্যায়: জীবনের পাঠ (Introduction to Life)
0/4
দ্বিতীয় অধ্যায়: জীবকোষ ও টিস্যু (Cell and Tissue)
0/7
তৃতীয় অধ্যায়: কোষ বিভাজন (Cell Division)
0/7
চতুর্থ অধ্যায়: জীবনীশক্তি (Bioenergetics)
0/6
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
নবম অধ্যায় : দৃঢ়তা প্রদান ও চলন
0/8
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
চতুর্দশ অধ্যায় :জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology)
0/6
About Lesson