Course Content
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
জীব বিজ্ঞান SSC Online
About Lesson

বাস্তুতন্ত্র : আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে তা নিয়েই আমাদের পরিবেশ। পরিবেশকে দু’ভাগে
ভাগ করা হয়। যথা- জড় পরিবেশ ও জীব পরিবেশ। এ দুটি পরিবেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। জড় পরিবেশের মূল
উপাদান হলো মাটি, পানি ও বায়ু। এ উপাদানগুলো জীবের আহার ও আশ্রয়ের যোগানদাতা।
পরিবেশ আমাদের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বেঁচে থাকার সব ধরনের উপাদান জীব পরিবেশ থেকে পায়। বিভিন্ন
পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের জীব গড়ে উঠে। যেমন- নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর প্রভৃতি জলচর প্রাণীর প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম কিন্তু এ
পরিবেশে স্থলচর প্রাণীরা বেঁচে থাকতে পারে না। মরূভূমিতে পানির অভাব তাই সেখানে উদ্ভিদের সংখ্যা কম। এ পরিবেশে উদ্ভিদ
বেশি একটা দেখা যায় না। জলজ প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিবেশে দুষ্প্রাপ্য। আবার সুন্দরবনের লবণাক্ত পরিবেশে যে সকল জীব জন্মায়
তা সিলেটের বা পার্বত্য অঞ্চলের বনভূমিতে দেখা যায় না। এ থেকে প্রতীয়মান যে, কোন একটি নির্দিষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশে যে
সকল জীব জন্মায় বা বাস করে তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য থাকে। এ রকম বিভিন্ন জীবের সমষ্টি নিয়ে গড়ে উঠে এক একটি জীব
সম্প্রদায়। প্রায় প্রতিটি জীব সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব থাকে। এরা একে অন্যের সহযোগিতায় দলবদ্ধভাবে বেঁচে
থাকে। কোন একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জলবায়ু কেমন হবে তা নির্ভর করে ঐ অঞ্চলের ভূপৃষ্ঠের অবস্থান এবং এর ভূপ্রকৃতির উপর। ঐ
অঞ্চলের জলবায়ুর প্রভাবে সেখানকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্প্রদায় গড়ে উঠে।
কোন স্থানের উদ্ভিদ, প্রাণী এবং এদের জড় পরিবেশ নিজেদের মধ্যে (যেমন- উদ্ভিদের সাথে উদ্ভিদের, প্রাণীর সাথে
প্রাণীর) এবং পরস্পরের মধ্যে (যেমন- উদ্ভিদের সাথে প্রাণীর বা পরিবেশের) ক্রিয়া-বিক্রিয়া করে অবস্থান করে। জীব ও
তার পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ফলে এদের গঠন ও কার্যের পরিবর্তন সাধিত হয়।
সবুজ উদ্ভিদ বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড (co2) ও মাটি থেকে পানি (h20) সংগ্রহ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়
তাদের প্রধান খাদ্য কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) তৈরির সময় অক্সিজেন (ঙ২) ত্যাগ করে। উদ্ভিদ ও প্রাণী শ্বসনের জন্য যতটুকু
অক্সিজেন প্রয়োজন তার একটি বড় অংশ আসে ঐ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া থেকে। কোনো স্থানের জীব (উদ্ভিদ, প্রাণী,
ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি) ও এদের পরিবেশ নিজেদের মধ্যে এবং পরস্পরের মধ্যে ক্রিয়া-বিক্রিয়ার গতিময় পদ্ধতিকে বাস্তুতন্ত্র
বলা হয়। সুতরাং কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট পরিবেশে সজীব এবং নির্জীব উপাদানের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াকে
বাস্তুতন্ত্র বলে।
বাস্তুতন্ত্রের উপাদান : বাস্তুতন্ত্র মূলত দুটি উপাদান নিয়ে গঠিত। যথা- (ক) অজৈব উপাদান এবং (খ) জৈব উপাদান।
অজৈব উপাদান- অজৈব উপাদানে পরিবেশের মৌলিক অজৈব, জৈব ও ভৌত উপাদান অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশের অক্সিজেন,
কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন, ক্যালসিয়াম, সালফার, ফসফরাস, অ্যামাইনো অ্যাসিড, হিউমিক অ্যাসিড প্রভৃতি
বাস্তুতন্ত্রের প্রধান মৌলিক অজৈব উপাদান। উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ বা এসব জীবের মৃতদেহ থেকে প্রাপ্ত জড়বস্তু,
কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট ইত্যাদি জৈব যৌগ। এরা জৈব রাসায়নিক গঠনরূপে অজৈব ও জৈব উপাদানের মধ্যে
যোগসূত্র রচনা করে। পরিবেশে সূর্যালোকের পরিমাণ, আলো, তাপ, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, আবহাওয়া, নির্দিষ্ট জায়গার মাটির
গঠন, এর ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও নির্দিষ্ট জায়গার অক্ষাংশ, পর্বতমালা ও উপত্যকার দিক
এ সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

 

 

জৈব উপাদান– জীবকুল বাস্তুতন্ত্রের সক্রিয় উপাদান। এতে নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে উপস্থিত যাবতীয় সজীব বস্তু, যেমন- প্রাণী,
উদ্ভিদ, অণুজীব প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত। জৈব উপাদান তিন ধরনের। যথা- ১। উৎপাদক, ২। খাদক, ৩। বিয়োজক বা
রূপান্তরক।
উৎপাদক  : সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং মাটি থেকে
পানি সংগ্রহ করে তাদের প্রধান খাদ্য শর্করা তৈরি করে। পুরো প্রাণিজগত তাদের জীবন ধারণের জন্য প্রত্যক্ষ বা
পরোক্ষভাবে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। ক্ষুদ্র ও আণুবীক্ষণিক ফাইটোপ্লাঙ্কটন, শৈবাল ইত্যাদি থেকে শুরু
করে পানিতে ভাসমান উদ্ভিদ বা ছোট বড় স্থলজ উদ্ভিদ সবই উৎপাদক। এদেরকে স্বভোজী (অঁঃড়ঃৎড়ঢ়য) বলা হয়।
কারণ এরা খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল নয়।
খাদক  : বাস্তুতন্ত্রে যে সব জীব উৎপাদকের তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভরশীল তাদের খাদক বলা হয়। একটি
বাস্তুতন্ত্রে তিন ধরনের খাদক দেখা যায়। এরা হচ্ছে

প্রথম স্তরের খাদক  : বাস্তুতন্ত্রে যে সব জীব উৎপাদকের তৈরি খাদ্যের উপর সম্পূর্ণভাবে
নির্ভরশীল তাদেরকে বলা হয় প্রথম স্তরের খাদক। বনের পতঙ্গ, হরিণ, খরগোশ, ছাগল, আর্থ্রোপোড প্রভৃতি প্রথম স্তরের
খাদক।
দ্বিতীয় স্তরের খাদক  : যে সব খাদক জীবন ধারণের জন্য প্রথম স্তরের খাদকের উপর নির্ভর
করে তাদেরকে দ্বিতীয় স্তরের খাদক বলা হয়। এরা এক ধরনের মাংসাশী প্রাণী। ব্যাঙ, শিয়াল, বাঘ ইত্যাদি দ্বিতীয় স্তরের
খাদক।
তৃতীয় স্তরের খাদক  : যে সব খাদক সাধারণত সেকেন্ডারি খাদকদের খেয়ে জীবন ধারণ করে
তাদেরকে তৃতীয় স্তরের খাদক বলা হয়। যেমন- সাপ দ্বিতীয় স্তরের খাদকরূপী ব্যাঙকে ধরে খায়। অর্থাৎ সাপ এখানে
তৃতীয় স্তরের খাদক। কিন্তু যেখানে বাজপাখি আছে সেখানে বাজপাখি সর্বোচ্চ খাদকরূপে ক্রিয়া করে।

বিয়োজক  : যে সজীব উপাদান কোন বাস্তুতন্ত্রের মৃত জীবের কলাভুক্ত জটিল জৈব যৌগগুলোকে
বিয়োজিত করে তা থেকে কিছু অংশ নিজেরা শোষণ করে এবং বাকি অংশের জটিল যৌগগুলোকে ভেঙ্গে সরল জৈব যৌগে
পরিণত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয় তাকে বিয়োজক বা রূপান্তরক বলা হয়। বিয়োজকদের অণুখাদক
 বলা হয়। যেমন- ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি।
বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহের আন্তঃসম্পর্ক : একটি পুকুরের বাস্তুতন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তুতন্ত্রের উপাদানসমূহের আন্তঃসম্পর্ক
ব্যাখ্যা করা হলো

পুকুরের বাস্তুতন্ত্র :
পুকুর জলজ বাস্তুতন্ত্রের একটি অন্যতম উদাহরণ।
একটি পুকুর বাস্তুতান্ত্রিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও
স্বনিয়ন্ত্রিত যেখানে অজৈব ও জৈব বস্তুর আন্তঃসম্পর্ক
বিস্তারিত জানা যায়। এখানে উদ্ভিদ ও প্রাণীর
সমন্বয়ে একটি ভৌত রাসায়নিক পরিবেশ উৎপন্ন
করে।
অজৈব উপাদান : পানি, মাটি, কার্বন ডাইঅক্সাইড,
অক্সিজেন, শর্করা, প্রোটিন, লিপিড, সূর্যালোক, তাপ,
আর্দ্রতা, অজৈব লবণ প্রভৃতি অজৈব উপাদান।
জৈব উপাদান : জৈব উপাদানকে নি¤েœাক্তভাবে ভাগ
করা যায়। যথা

Web capture 4 12 2023 19919

উৎপাদক : সালোকসংশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রকার শৈবাল ও অগভীর পানির উদ্ভিদ (যেমন- শালুক, পদ্ম, পাতা শ্যাওলা)
উৎপাদক হিসেবে কাজ করে। পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র জীবদের প্লাঙ্কটন বলা হয়। উদ্ভিদ প্লাঙ্কটন (এদেরকে খালি চোখে
দেখা যায় না), সবুজ শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপন্ন করে, তাই এদেরকে
উৎপাদক বলে

্রথম স্তরের খাদক : মশার লার্ভা, পানির উপরে ভাসমান জলজ মাছি, ভাসমান ক্ষুদে পোকা প্রভৃতি প্রথম স্তরের খাদক।
ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণীদেরকে জুয়োপ্লাঙ্কটন বলে। এরা নিজেরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না বিধায় সরাসরি উৎপাদককে ভক্ষণ
করে বেঁচে থাকে।
দ্বিতীয় স্তরের খাদক : ছোট ছোট মাছ, কিছু জলজ পতঙ্গ, ব্যাঙ প্রভৃতি দ্বিতীয় স্তরের খাদক। এরা নিজেরা খাদ্য প্রস্তুত
করতে পারে না এবং উৎপাদককেও খাদ্য হিসেবে সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। তাই এরা খাদ্যের জন্য প্রথম স্তরের
খাদকের উপর নির্ভরশীল।
তৃতীয় স্তরের খাদক : যারা খাদ্যের জন্য দ্বিতীয় স্তরের খাদকের উপর নির্ভরশীল তাদেরকে তৃতীয় স্তরের খাদক বলা হয়।
যেমন- বড় মাছ (শোল, বোয়াল, ভেটকি প্রভৃতি), বক, সারস, পানকৌড়ি, গাংচিল প্রভৃতি তৃতীয় স্তরের খাদক।
বিয়োজক : মৃতজীবী ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকই পুকুরের প্রধান বিয়োজক। এরা পুকুরের পানিতে ও কাঁদায় বাস করে।
বিয়োজকগুলো উৎপাদক ও খাদকদের মৃতদেহের পচন ঘটিয়ে জটিল যৌগকে সরল উপাদানে মুক্ত করে দেয়। এসব
বিয়োজিত উপাদানগুলো আবার পুকুরের উৎপাদক শ্রেণীর জীব ব্যবহার করে।