Course Content
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
জীব বিজ্ঞান SSC Online
About Lesson

A রক্তগ্রুপের ব্যক্তিদের লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে A অ্যান্টিজেন থাকে এবং B অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে IgM অ্যান্টিবডি ধারণকারী রক্তের সিরাম থাকে। অতএব, একজন A গ্রুপ ব্যক্তি শুধুমাত্র A বা O গ্রুপের ব্যক্তিদের কাছ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে (A প্রাধান্যযোগ্য) এবং A বা AB টাইপের ব্যক্তিদের রক্ত দিতে পারে

ব্লাডগ্রুপ-AB ➞ AB ব্লাডগ্রুপ বিশিষ্ট ব্যক্তির লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে অ্যান্টিজেন-A ও B উভয়ই থাকে, কিন্তু রক্তরসে ব্লাডগ্রুপ নির্ধারণকারী কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না । AB গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রক্তকে জমাতে পারে না, কারণ অ্যান্টিবডি-A বা B নেই । AB ব্লাডগ্রুপের দাতা শুধু AB ব্লাডগ্রুপের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে এবং সব গ্রুপের রক্ত নিতে পারে, এজন্য AB ব্লাডগ্রুপের ব্যক্তিকে সার্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় ।

ব্লাডগ্রুপ-O ➞ O ব্লাডগ্রুপ বিশিষ্ট ব্যক্তির লোহিত রক্তকণিকার ঝিল্লিতে ব্লাডগ্রুপ নির্ধারণকারী কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না, কিন্তু রক্তরসে অ্যান্টিবডি-A ও B উভয়ই থাকে । O গ্রুপের রক্তের অ্যান্টিবডি নিজের গ্রুপের রক্ত ছাড়া অন্য তিনটি গ্রুপের রক্তের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দেয় । O ব্লাডগ্রুপের দাতা সকল ব্লাডগ্রুপের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে এবং শুধু O ব্লাডগ্রুপের রক্ত নিতে পারে, এজন্য O ব্লাডগ্রুপের ব্যক্তিকে সার্বজনীন দাতা বলা হয় ।

প্রকৃতপক্ষে, সার্বজনীন গ্রহীতা হলো AB পজিটিভ এবং সার্বজনীন দাতা হলো O নেগেটিভ ।

ABO ব্লাড গ্রুপঃ

লোহিত রক্তকণিকার প্লাজমামেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে ব্লাড গ্রুপ বলে। অস্ট্রিয়ায় জন্ম গ্রহণকারী আমেরিকান জীববিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার (Karl Landsteiner) ১৯০১ সালে মনুষ্য রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করেন। রক্তকণিকায় কতকগুলো অ্যান্টিজেন (antigen)-এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানী ল্যান্ডস্টেইনার মানুষের রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ বা সংক্ষেপে ব্লাড গ্রুপ(blood group) নামে পরিচিত। অনেক সময় একে ল্যান্ডস্টেইনার-এর ব্লাড গ্রুপ (Landsteiner blood group)-ও বলে । বিজ্ঞানীদের প্রচন্ড আগ্রহের ফলে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত আরও ১৩টি ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কৃত হয়।

মানুষের রক্তে A ও B-এই দুরকম অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। অ্যান্টিজেন A ও B-র সাথে রক্তরসে কতকগুলো স্বতঃস্ফূত অ্যান্টিবডি রয়েছে। এগুলোকে বলে a (বা anti-A) এবং b (anti-B)। এভাবে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে সমগ্র মানবজাতির রক্তকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা যায়, যথা- A, B, AB ও O ।A ব্লাড গ্রুপে A অ্যান্টিজেন B ব্লাড গ্রুপে B অ্যান্টিজেন এবং AB ব্লাড গ্রুপে A ও B উভয় অ্যান্টিজেন থাকে । 0 ব্লাড গ্রুপে রক্তের কণিকাঝিল্লিতে কোনো অ্যান্টিজেন নেই কিন্তু রক্তরসে a ও b দুরকম অ্যান্টিবডিই থাকে। A গ্রুপের রক্তের অ্যান্টিবডি B ব্লাড গ্রুপের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দেয়। অনুরূপভাবে, B গ্রুপের রক্তের অ্যান্টিবডি A গ্রুপের রক্তের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দেয়। কিন্তু AB গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রক্তকে জমাতে পারে না, কারণ সেখানে কোনো অ্যান্টিবডি নেই। একই কারণে O গ্রুপের রক্ত নিজের গ্রুপের রক্ত ছাড়া অন্য ৩টি গ্রুপের রক্তকে জমিয়ে দেয় । অর্থাৎ কারও দেহে O গ্রুপের রক্ত থাকলে তিনি কেবল O গ্রুপের রক্ত নিতে পারবেন কিন্তু দেওয়ার সময় সব গ্রুপকেই রক্ত দিতে পারবেন।