Course Content
পঞ্চম অধ্যায়: খাদ্য, পুষ্টি এবং পরিপাক (Food, Nutrition, and Digestion)
0/17
ষষ্ঠ অধ্যায় : জীবে পরিবহণ (Transport in Living Organisms)
0/21
সপ্তম অধ্যায় : গ্যাসীয় বিনিময়
0/12
অষ্টম অধ্যায় : রেচন প্রক্রিয়া
0/12
দশম অধ্যায় : সমন্বয়
0/13
একাদশ অধ্যায় : জীবের প্রজনন
0/10
দ্বাদশ অধ্যায় : জীবের বংশগতি ও বিবর্তন
0/11
ত্রয়োদশ অধ্যায়: জীবের পরিবেশ
0/10
জীব বিজ্ঞান SSC Online
About Lesson

উদ্ভিদে পানি শোষণ প্রক্রিয়া : উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে পানি আহরণ করে। মূলের শীর্ষ থেকেকিছুটা পেছনে খুব ঘন হয়ে মূলরোম অঞ্চল অবস্থিত। মূলরোম নলাকার, দীর্ঘ এবং এককোষী। মূলের বহিঃত্বকের কোষ প্রাচীর লম্বা হয়ে মূলরোমের সৃষ্টি করে। মূলরোমের কোষ প্রাচীর ভেদ্য। যে সকল মূলরোম পেকটিন ও সেলুলোজ উপাদানে তৈরি সেগুলো অত্যন্ত পানিগ্রাহী। মূলরোমে কোষ রসে পূর্ণ কোষ গহŸর থাকে। মূলরোম মাটির পানির সংস্পর্শে থাকে। মূল যখন বৃদ্ধি পায় তখন পুরাতন মূলরোম বিনষ্ট হয়ে যায়। নতুন মূলরোম অঞ্চলের সৃষ্টি হয়। এভাবে মূলরোম সব সময় পানির নতুন উৎসের দিকে ধাবিত হয়। অভিস্রবণের নতিমাত্রা অনুযায়ী মাটি থেকে পানি মূলের জাইলেম টিস্যুতে প্রবেশ করে। এ প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ে মূলরোমের পানিগ্রাহী কোষ প্রাচীর ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় মাটি থেকে পানি শোষণ করে। মূলরোমের কোষ রসের অভিস্রবণিক চাপ সাধারণত মাটির পানির অভিস্রবণিক চাপের চেয়ে বেশি থাকে। এ কারণে ব্যাপন চাপের ঘাটতি এবং শোষণ চাপ বেড়ে যায়। কোষ প্রাচীর থেকে পানি তখন অর্ধভেদ্য প্লাজমা মেমব্রেনের মধ্য দিয়ে অভিস্রবণের মাধ্যমে মূলরোমের কোষে প্রবেশ করে। এসময় মূলরোমের অভিস্রবণিক চাপ, শোষণ চাপ এবং ব্যাপন চাপের ঘাটতি কমে কিন্তু রসস্ফীতি চাপ বাড়ে। মূলরোমের সন্নিহিত কর্টেক্স অঞ্চলের কোষগুলোর অভিস্রবণিক চাপ, শোষণ চাপ এবং ব্যাপন চাপের ঘাটতি এখন মূলরোমের কোষের চেয়ে বেশি। কাজেই মূলরোম থেকে পানি ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কর্টেক্সের কোষে প্রবেশ করে। একইভাবে কোষ থেকে কোষান্তরে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি এন্ডোডারমিস (ঊহফড়ফবৎসরং) কোষ স্তরের পাতলা কোষ প্রাচীরের কোষের মধ্য দিয়ে পেরিসাইকেল কোষের স্তরে পৌঁছায়। সবশেষে একইভাবে পেরিসাইকেল কোষ থেকে পানি জাইলেমে প্রবেশ করে। মূলের জাইলেমে তখন এক ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়। এ চাপ মূলজ চাপ নামে পরিচিত। মূলজ চাপ জাইলেমের পানিকে কিছুটা উঁচুতে তুলে দিতে পারে

উদ্ভিদে খনিজ পদার্থের শোষণ : অধিকাংশ উদ্ভিদ পানি শোষণের সাথে সাথে কিছু খনিজ পদার্থ বিশেষ করে খনিজ লবণ
শোষণ করে। মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চলে নব গঠিত কোষগুলোই লবণ শোষণে অধিক কার্যক্ষম। মূলরোম
দিয়েও কিছু লবণ শোষণ ঘটে। উদ্ভিদ লবণের সম্পূর্ণ অণু শোষণ করে না। লবণ পানিতে দ্রবীভ‚ত হয়ে অ্যানায়ন এবং
ক্যাটায়ন এ পরিণত হয়। অ্যানায়নের আধান ঋণাত্বক (-) এবং ক্যাটায়নের আধান ধনাত্বক (+)। উদ্ভিদ সাধারণত সাত
রকমের ঋণাত্বক এবং দশ রকমের ধনাত্বক আয়ন শোষণ করে। মাটিতে ঋণাত্বক এবং ধনাত্বক আয়ন প্রচুর রয়েছে।

এদের মধ্যে ¨ K+, NO3-


সবচেয়ে দ্রুত এবং s Ca2+  SO4

সবচেয়ে ধীরে শোষিত হয়। উদ্ভিদে লবণ শোষণ দু’ভাবে
ঘটে। যথা- (ক) সক্রিয় লবণ শোষণ এবং (খ) নিষ্ক্রিয় লবণ শোষণ।
সক্রিয় লবণ শোষণ- এ শোষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ বিপাকীয় শক্তি এটিপি (অঞচ) ব্যবহার করে। বিজ্ঞানীরা অনেকে মনে
করেন খনিজ লবণের আয়নগুলো এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বাহকের মাধ্যমে উদ্ভিদ কোষে প্রবেশ করে। বাহকগুলো ধনাত্বক
এবং ঋণাত্বক আধানযুক্ত। সাইটোক্রোম এবং ফসফরাসযুক্ত নাইট্রোজেন যৌগসমূহ আয়নের বাহক হিসেবে কাজ করে।
আধানযুক্ত এসব বাহক কেবল বিপরীত আধানযুক্ত আয়নই বহন করতে পারে। পর্যায়ক্রমে একাধিক বাহক আয়নগুলোকে
মাটির দ্রবণ থেকে কোষ গহŸরের দ্রবণে পৌঁছে দেয়।
নিষ্ক্রিয় লবণ শোষণ- বিজ্ঞানীদের অনেকে আবার মনে করেন যে, উদ্ভিদের খনিজ লবণ শোষণ ব্যাপন প্রক্রিয়ায় হয়ে
থাকে। মাটির দ্রবণ এবং মূলরোমের কোষের দ্রবণের ঘনত্বের অসমতাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ
উদ্ভিদ কোষে প্রবেশ করে। দ্রবণ দুটির ঘনত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত সমান না হয় ততক্ষণ এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এ শোষণ
প্রক্রিয়ায় কোন বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয় না বলে একে নিষ্ক্রিয় শোষণ বলা হয়।