সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপজাত হল অক্সিজেন। এই প্রক্রিয়ায় সজীব উদ্ভিদকোষে উপস্থিত ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক আলোকশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং তা উৎপন্ন শর্করাজাতীয় খাদ্যের মধ্যে স্থিতিশক্তি রূপে সঞ্চিত রাখে। এই শক্তি পরবর্তীকালে স্বভোজী উদ্ভিদ দ্বারা অথবা শাকাহারী প্রাণীদের গৌণ পুষ্টিতে সাহায্য করে।
প্রতিটি সজীব উদ্ভিদে প্রতিনিয়ত অনেক প্রকার জৈবনিক প্রক্রিয়া সংঘটিত হচ্ছে। যেমনপানি শোষণ, ইমবাইবিশন, অসমোসিস, লবণ শোষণ, রস উত্তোলন, প্রস্বেদন, সালোকসংশ্লেষণ, শ্বসন,পুষ্পায়ন, বৃদ্ধি, চলন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জৈবনিক প্রক্রিয়া। এ জৈবনিক প্রক্রিয়াগুলোর জন্য বিভিন্ন পদার্থের(যেমন পানি ও খনিজ লবণ) পরিবহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য চলাচলেও এরা ভূমিকা রাখে। উদ্ভিদদেহে জৈব ও অজৈব দ্রব্যের স্থানান্তরকে পরিবহন বলা হয়। এসব পদার্থের পরিবহনের জন্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিশেষ ধরনের টিস্যুর বিন্যাস রয়েছে। এ টিস্যু বিন্যাসকে পরিবহন তন্ত্র বলা হয়। কান্ডের জাইলেম টিস্যুর মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ যেমন মূল থেকে পাতায় পৌঁছায়, তেমন পাতা থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরি শর্করা জাতীয় খাদ্য পানির সঙ্গে কান্ডের ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়, যা উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদ ও পানির সম্পর্ক : জীব দেহের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সাথে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। জীব দেহের ভৌত ভিত্তি হলো প্রোটোপ্লাজম। এর শতকরা ৯০ ভাগই পানি। উদ্ভিদের অনেক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পানি ছাড়া সম্পন্ন হয় না। উদ্ভিদ কোষের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পদার্থ শোষিত হবার আগে পানিতে দ্রবীভূত হতে হয়। কোষ থেকে কোষান্তরে খাদ্য এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান স্থানান্তরের জন্য পানি প্রয়োজন। উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। স্থলজ উদ্ভিদের অধিকাংশ মাটি থেকেই তাদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি সংগ্রহ করে। মূলের সাহায্যে উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি ছাড়া বিভিন্ন খনিজ পদার্থও সংগ্রহ করে। এছাড়াও উদ্ভিদ দেহে যতগুলো বিপাকীয় বিক্রিয়া চলে তাতে পানির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কারণ পানির অভাবে এগুলো বন্ধ হয়ে যায়। উদ্ভিদ প্রধানত মূলের সাহায্যে মাটি থেকে পানি শোষণ করে। এতে তিনটি প্রক্রিয়া সম্মিলিতভাবে কাজ করে। যেমন- (ক) ইমবাইবিশন, (খ) ব্যাপন এবং (গ)অভি¯্রবণ।
ইমবাইবিশন : উদ্ভিদের শুকনো বীজ, কাঠ, ইত্যাদি পানির সংস্পর্শে আসলে এগুলো পানি শোষণ করে। শুকনো বস্তুর এ ধরনের পানি শোষণ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইমবাইবিশন। সেলুলোজ, স্টার্চ, জিলাটিন, পেকটিন, প্রোটোপ্লাজমের প্রোটিন এবং উদ্ভিদ কোষের অন্যান্য জৈব রাসায়নিক পদার্থের ইমবাইবিশন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পানি শোষণের ক্ষমতা রয়েছে। ইমবাইবিশনের মাধ্যমে পানি শোষণের ফলে এসব জিনিসের আয়তন বাড়ে।
ব্যাপন : একটি স্বচ্ছ কাচের গøাসে পানি নিয়ে তাতে সামান্য পরিমাণে তুঁত (কপার সালফেট) এর গুঁড়া ছেড়ে দিলে দেখা যাবে ধীরে ধীরে পুরো গøাসের পানি রঙ্গিন হয়েছে। কপার সালফেট অণুগুলো নিজে নিজেই পানির অণুগুলোর ফাঁকে ফাঁকে স্থান করে নিয়েছে। এটিই ব্যাপন প্রক্রিয়া। এভাবেই বাতাসে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। চায়ের মধ্যে চিনি গুলে যায়। যে প্রক্রিয়ায় কোনও পদার্থের অণু নিজস্ব গতি শক্তির সাহায্যে বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ছড়িয়ে পড়ে তাকে ব্যাপন বলা হয়। এটি একটি ভৌত প্রক্রিয়া। একই তাপমাত্রা এবং চাপে কোনও পদার্থের বেশি ঘনত্ব থেকে কম ঘনত্বের দিকে ব্যাপিত হবার প্রচ্ছন্ন ক্ষমতাকে ব্যাপন চাপ বলা হয়। একই বায়ু চাপে কোনও একটি দ্রবণ এবং দ্রাবকের ব্যাপন চাপের যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তাকে ব্যাপন চাপ ঘাটতি বলা হয়। উদ্ভিদের পাতার মেসোফিল টিস্যুতে এ ব্যাপন চাপ ঘাটতির ফলে পানির ঘাটতি থাকা কোষগুলো পাশের কোষ থেকে পানি টেনে নেয়। তাই উদ্ভিদের পানি শোষণে ব্যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম।