আজকের পাঠে আমরা মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য নিয়ে আলোচনা করব। (Dear students, in today’s lesson, we will discuss the mysteries of the universe creation.)
প্রথমে আমরা মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কিত কিছু প্রাথমিক ধারণা আলোচনা করব। (First, we will discuss some basic concepts related to the origin of the universe.)
মহাবিশ্ব বলতে আমরা সমস্ত স্থান, সময়, পদার্থ, এবং শক্তিকে বুঝি। (By the universe, we mean all space, time, matter, and energy.)
প্রথমে আমরা বিগ ব্যাং তত্ত্ব সম্পর্কে আলোচনা করব। (First, we will discuss the Big Bang Theory.)
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের উৎপত্তি একটি মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে হয়েছিল প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে। (According to the Big Bang Theory, the universe originated from a massive explosion approximately 13.8 billion years ago.)
এই বিস্ফোরণের ফলে সমস্ত পদার্থ ও শক্তি মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। (As a result of this explosion, all matter and energy spread throughout the universe.)
মহাবিশ্বের প্রথম মুহূর্তগুলি ছিল অত্যন্ত উষ্ণ এবং ঘন। (The initial moments of the universe were extremely hot and dense.)
পরবর্তীতে মহাবিশ্ব ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে থাকে এবং বিভিন্ন পদার্থ ও শক্তি গঠন করতে শুরু করে। (Subsequently, the universe gradually began to cool down and started forming various matter and energy.)
এখন আমরা মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কে আলোচনা করব। (Now, we will discuss the expansion of the universe.)
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্ব এখনও সম্প্রসারিত হচ্ছে। (According to the Big Bang Theory, the universe is still expanding.)
এই সম্প্রসারণ হাবল টেলিস্কোপ এবং অন্যান্য আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। (This expansion can be observed through the Hubble Telescope and other modern instruments.)
এখন আমরা অন্ধকার পদার্থ এবং অন্ধকার শক্তির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করব। (Next, we will discuss the significance of dark matter and dark energy.)
অন্ধকার পদার্থ এবং অন্ধকার শক্তি মহাবিশ্বের একটি বড় অংশ গঠন করে, কিন্তু এদের সম্পর্কে খুব কম জানা যায়। (Dark matter and dark energy make up a large portion of the universe, but little is known about them.)
অন্ধকার পদার্থ মহাবিশ্বের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। (Dark matter helps maintain the stability of the universe.)
অন্ধকার শক্তি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের গতি বাড়ায়। (Dark energy accelerates the expansion of the universe.)
আমরা মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করব। (We will discuss the future of the universe.)
মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিভিন্ন তত্ত্ব আছে, কিন্তু সঠিকভাবে বলা কঠিন। (There are various theories about the future of the universe, but it is difficult to say for sure.)
কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, মহাবিশ্ব অনন্তকাল সম্প্রসারিত হবে। (According to some theories, the universe will expand forever.)
আবার কিছু তত্ত্ব অনুযায়ী, এক সময়ে মহাবিশ্ব সংকুচিত হতে শুরু করবে। (According to other theories, at some point, the universe will begin to contract.)
মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের বিষয়ে এই ছিল আমাদের আজকের পাঠ। (This was our lesson on the creation and expansion of the universe.)
আশা করি, তোমরা সবাই মহাবিশ্বের রহস্য সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেয়েছ। (I hope you all have gained some understanding of the mysteries of the universe.)
আদিকাল থেকেই মানুষ মহাবিশ্ব ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে নানা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে, এখনো তবু মহাবিশ্ব ও এর সৃষ্টি রহস্যের অনেক কিছুই মানুষের অজানা । মহাবিশ্ব সকল পদার্থ, শক্তি ও স্থান অর্থাৎ যা কিছুর অস্তিত্ব আছে তাদের সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। অন্য কথায়, অগণিত নক্ষত্ররাজ্য, ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি অনন্ত মহাকাশে ছড়ানো পদার্থ, শক্তি এইসব মিলিয়ে যে বস্তুজগত্ তারই নাম মহাবিশ্ব। অনুমান করা হয় যে, মহাবিশ্বে 109 সংখ্যক ছায়াপথ আছে। মহাবিশ্বের প্রকৃতি, উৎস ও বিবর্তন নিয়ে যে পর্যালোচনা তাকে বলা হয় সৃষ্টিতত্ত্ব (cosmology) মহাবিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ প্রচলিত তার মধ্যে নিচের কয়েকটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ।
১। মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব (Big bang theory)
২। সম্প্রসারণ তত্ত্ব (Expanding universe theory)
৩। স্পন্দনশীল তত্ত্ব (Pulsating theory)
৪। অবিচল অবস্থা তত্ত্ব (Steady state theory)
১। মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের প্রবর্তক হলেন বিজ্ঞানী জর্জ লেমিটার ( George Lemaitre)। তাঁর তত্ত্ব মতে 20 বিলিয়ন বছর পূর্বে অনুমান করা হয় মহাবিশ্বের ভর ছিল 105 kg । এই ভর মূলত একটি অতি উত্তপ্ত (= 1012 K) তাপমাত্রায় একটি অতি ঘন আগুনের গোলক হিসাবে ছিল। এই গোলকের ব্যাসার্ধ ছিল সূর্যের প্রায় দশগুণ। সুতরাং-মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন গোলক এবং এর ঘনত্ব ছিল 1021 kgm-3। বিশ বিলিয়ন ( 20 x 109) বছর পূর্বে এক মহাবিস্ফোরণ ঘটে। ফলে অগ্নিগোলকটি অসংখ্য টুকরায় বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি ও নক্ষত্ররূপে অতি উচ্চ বেগে সকল দিকে ছড়িয়ে পড়ে। জজ লেমিটার এই তত্ত্ব প্রদান করেন এবং এর Big-bang নামটি জর্জ গ্যামোর (George Gamow) দেওয়া।
২। সম্প্রসারণ তত্ত্ব :
এই তত্ত্ব মতে সকল গ্যালাক্সি পৃথিবী থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে এবং আমরা একটি শূন্য বা খালি মহাবিশ্ব পাব। এর কারণ হলো মহাবিশ্বের ধারাবাহিক বা অবিরত প্রসারণের ফলে অনেক অনেক গ্যালাক্সি মহাবিশ্বের সীমানার বাইরে চলে যাবে এবং হারিয়ে যাবে।
৩। স্পন্দনশীল তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের মতে মহাবিশ্ব অনির্দিষ্টভাবে প্রসারিত হতে পারে না। একটি নির্দিষ্ট অবস্থার পর মহাকর্ষীয় আকর্ষণের কারণে এই প্রসারণ থেমে যাবে এবং মহাবিশ্ব পুনরায় সঙ্কুচিত হয়ে আসবে। সঙ্কুচিত হয়ে মহাবিশ্ব একটি সংকট আকারে পৌঁছালে এটা পুনরায় বিস্ফোরিত হবে এবং নতুন করে প্রসারণ ও তারকার সঙ্কোচন ঘটবে। ফলে মহাবিশ্বের সীমা একবার বড় ও একবার ছোট হয়ে অর্থাৎ সীমানা স্পন্দিত হবে, এজন্য কখনো কখনো একে স্পন্দনশীল মহাবিশ্ব বলা হয়। এ তত্ত্বের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, 8 × 109 বছর পরপর মহাবিশ্বের প্রসারণ ও সঙ্কোচন ঘটে।
৪। অবিচল অবস্থা তত্ত্ব :
এই তত্ত্বের প্রবর্তক হলেন জ্যোতি বিজ্ঞানী গোল্ড, বন্ড ও ফ্রেড হোয়েল । এই তত্ত্বের মতে মহাবিশ্ব একটি অবিচল বা স্থির অবস্থায় পৌঁছে গেছে এবং সকল স্থান থেকে সকলের নিকট একই রকম দেখায়। মহাবিশ্বের মোট গ্যালাক্সির সংখ্যাও একটি স্থির অবস্থায় পৌঁছেছে। মহাবিশ্বের পর্যবেক্ষণযোগ্য অংশ থেকে যদিও কিছু গ্যালাক্সি হারিয়ে যাচ্ছে, নতুন গ্যালাক্সি তৈরি হয়ে গ্যালাক্সির সংখ্যা সমান করছে। অবিচল অবস্থা তত্ত্ব, যাকে অবিরত তৈরি তত্ত্বও বলা হয়। এর ভিত্তি হলো পদার্থ ও শক্তির আন্তঃরূপান্তর ।