যে যন্ত্রের সাহায্যে বহু দূরের বস্তু পরিষ্কারভাবে দেখা যায় তাকে দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা টেলিস্কোপ বা দূরবীণ বলে। মূলনীতি : বহুদূরে অবস্থিত বস্তু থেকে আগত সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছকে একাধিক লেন্স বা দর্পণে প্রতিসরিত বা প্রতিফলিত করে বস্তুর একটি অবাস্তব ও সোজা বিশ্ব গঠন করা হয়। সাধারণত লেন্স বা দর্পণগুলোকে এমনভাবে সমন্বয় করা হয় যাতে বিশ্বটি চোখের নিকট বিন্দুতে গঠিত হয়।
১দর্পণ ও লেন্সের সাধারণ সমীকরণ
1𝑣+1𝑢=1𝑔
এখানে u = দর্পণ বা লেন্স থেকে বস্তুর দূরত্ব
v = দর্পণ বা লেন্স থেকে বিশ্বের দূরত্ব
f = দর্পণ বা লেন্সের ফোকাস দূরত্ব
দর্পণ অবতল হোক বা উত্তল হোক, নেল উত্তল হোক বা অবতল হোক, বিশ্ব বাস্তব হোক বা অবাস্তব হোক, বিবর্ধিত হোক বা না হোক, ফোকাস দূরত্ব ও লক্ষ্যবস্তুর দূরত্বের সাথে বিশ্বের দূরত্বের সম্পর্ক হচ্ছে এটি এবং বিবর্ধনের রাশিমালা হচ্ছে 𝑚=-𝑣𝑢
দূরবীক্ষণ যন্ত্র সাধারণত দু’ধরনের হয়। যথা—
ক. প্রতিসারক দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা রিফ্রাক্টিং টেলিস্কোপ (Refracting Telescope) ও
খ. প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র বা রিফ্লেক্টিং টেলিস্কোপ (Reflecting Telescope)
যে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের অভিলক্ষ্যে বড় উন্মেষ ও ফোকাস দূরত্বের লেন্স ব্যবহার করা হয় তাকে প্রতিসারক দূরবীক্ষণ যন্ত্র বলে। প্রতিসারক দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে প্রধানত তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা—
১. নভো বা জ্যোতিষ দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Astronomical telescope)
২. ভূ-দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Terrestrial telescope) ।
৩. গ্যালিলীয় দূরবীক্ষণ যন্ত্র ( Galilean telescope)।
যে দূরবীক্ষণ যন্ত্রের অভিলক্ষ্যে অবতল দর্পণ ব্যবহার করা হয় তাকে প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র বলে।
প্রতিফলক দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবার তিন ধরনের হয়। যথা—
১. নিউটনের দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Newton’s telescope),
২. হার্সেলের দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Harchel’s telescope) ও
৩. গ্রেগরীর দূরবীক্ষণ যন্ত্র (Gregory’s telescope)।
নিচে আমরা একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালি আলোচনা করছি।